1. ekhonbartabd@gmail.com : দৈনিক এখন বার্তা : দৈনিক এখন বার্তা
  2. info@www.ekhonbarta.com : দৈনিক এখন বার্তা :
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঈদ পরবর্তী মিলনমেলায় এনসিপি ভালুকা উপজেলা শাখার ঐক্যের বার্তা জামালপুরের মাদারগঞ্জে এবারও জমজমাট শতবর্ষী ঈদমেলা ঈদের  ছুটির বদৌলতে কক্সবাজারে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের  ভিড়, কক্সবাজারে গুলিতে যুবক নিহত, অস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ সিএমপির চান্দগাঁও থানার বিশেষ অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহনকালে  আটক-৩ লোহাগাড়ায় বাস মাইক্রোবাস সংঘর্ষে  মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে  ১০   ছুটি কাটিয়ে মেট্রোরেল ও আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু করেছে  ঈদ জামাতে মুছে গেল সব ভেদাভেদ,উৎসবমুখর পরিবেশে মুসল্লিরা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, চট্টগ্রাম লোহাগাড়ায় ঈদের দিন দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত  ৫

ঈদ সামনে রেখে কলাতলী ও সুগন্ধায়  পয়েন্টের ফুটপাত নেই বললে চলে সক্রিয় দখলবাজ চক্র

উৎসবের আলো
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

 

এম কে আলম চৌধুরী

ঈদ সামনে রেখে কলাতলী ও সুগন্ধায়  পয়েন্টের ফুটপাত নেই বললে চলে সক্রিয় দখলবাজ চক্র

ঈদকে সামনে রেখে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠছে দখলবাজ চক্র। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে বার বার অভিযান পরিচালনা করলেও ফলদায়ক তেমন কিছু লক্ষ্য করা যায় না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টের ফুটপাত নেই বললে চলে। সড়কের দু’পাশে গড়ে উঠা ফুটপাত ইতিমধ্যে দখল হয়ে গেছে। বিশেষ করে সামনের ঈদকে পুঁজি করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলের রাস্তা দখল হয়ে গেছে। সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের রাস্তার উভয় পাশে ও বালুচরে আরও কয়েক শতাধিক অবৈধ ঝুপড়ি দোকান নির্মাণ ও ভ্যান বসিয়ে চলাচলের রাস্তা দখল করে নিয়েছে একটি চক্র। সুগন্ধা পয়েন্টে নজু’র নিয়ন্ত্রিত মেহেদী মার্কেটে আসন্ন রমজানের ঈদকে ঘিরে রাতের আধারে নতুন করে ঝুপড়ি দোকান সংস্কার ও মাটি ভরাটের কাজ চলার সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংস্কার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু রাত গড়ালে আবারও একই নিয়মে দোকান নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। এমনকি রাস্তার পাশে গড়ে তোলা এসব অবৈধ স্থাপনা, ঝুপড়ি দোকানগুলোতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। যেখানে বিদ্যুৎ অফিসের কতিপয় ব্যক্তিও জড়িত থাকারও অভিযোগ পাওয়া যায়।

জানা যায়-সুগন্ধা পয়েন্টের ড্রাগন মার্কেটের পূর্ব পাশের ওই স্থানে ইতোপূর্বে ৯ বার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় অর্ধশত অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছিল। উচ্ছেদ করে উদ্ধারকৃত সরকারী জমিতে তার কাঁটা দেয়াসহ ৯০টি নারকেল গাছের চারা রোপন করা হয়েছিল। এ ছাড়া উচ্ছেদ অভিযানের কিছু দিন যেতে না যেতেই তারকাটা, নারকেল গাছ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে যায় দখলবাজ চক্র। এদিকে, কলাতলী সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টেও একই অবস্থা। ঈদকে সামনে ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছে অর্ধ শতাধিক ঝুপড়ি দোকান। প্রশাসনের একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারী জমি ও রাস্তা দখল করে অবৈধ দোকান নির্মাণের কারণে পর্যটন এলাকার সর্বস্তরের লোকজনের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার কারনে সংকুচিত হয়ে গেছে পথচারীদের চলাচলের রাস্তা। সৈকতে নামার যে সৌন্দর্য, সেটি এখন পড়ছে না। প্রশাসন অভিযান করার কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারও দখল হয়ে যায়। তাঁদের সাথে কিছু বীচ কর্মীও জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সৈকতের মধ্যেই পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে।
পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে কলাতলী প্রধান সড়ক থেকে সুগন্ধা সমুদ্র সৈকতে নামতে সড়কের মাঝখানে ডিভাইডারে ফুলের বাগান ও লাইটিং করা হয়। তবে এই সড়কের এক লেনও এখন অক্ষত নেই। অবৈধ গাড়ি পার্কিং, হকার ও ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের দখলদারিত্ব চলছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের নমনীয়তাকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে অবৈধ দোকান ঘর নির্মাণ থেমে নেই।

সৈকত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের দু’জন বিচ কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও পুলিশ খুব বেশি সক্রিয় নেই। এই সুযোগে কিছু দখলদার প্রতিদিন সৈকতের আশপাশে কোথাও না কোথাও দখল করছে।
নাম না জানার শর্তে একাধিক স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ওই চিহিৃত দখলবাজ সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে সরকারী জমিতে দোকান নির্মান করলেও প্রশাসনের কোন খবর নেই। অনেক সময় দিনের আলোয় প্রকাশ্যে সরকারি জমি দখল হয় সুগন্ধা পয়েন্টে। ড্রাগন মার্কেট থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত সারিবদ্ধ ভাবে থাকা অর্ধশত দোকানের মধ্য প্রতি দোকানদার থেকে নেয়া হয় বছরে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা করে। আবার এককালীন এই অবৈধ দোকান বিক্রি হয় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকায়। এছাড়া সুগন্ধা বীচের বালিয়াড়ি পর্যন্ত অন্তত ৪০০-৫০০ ভাসমান দোকান রয়েছে। যেগুলো থেকে দৈনিক ২’শ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়।

ড্রাগন মার্কেটের পাশেই নতুন দখল করে দোকান সংস্কার করা এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সরকারি জায়গা দখল হচ্ছে সত্য। যদি প্রশাসন ছেড়ে দিতে বলে তাহলে জায়গা ছেড়ে দেব। ঈদের আগে দোকান একটু সংস্কার করা দরকার তাই করছি। এখানে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযানও হয়েছে তাও সঠিক। কিন্তু আমি এক বছর পর্যন্ত দোকান করছি। কেউ বাঁধা দেয়নি।’
আরেকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান- ‘দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে বাৎসরিক চুক্তিতে বাহারছড়ার এলাকার একজনের কাছ থেকে তিনি একটি দোকান নিয়েছেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশে সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে সব ধরনের স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশনা রয়েছে। সৈকতের লাবণী থেকে কলাতলী পর্যন্ত অন্তত ৫০০ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে।’

পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট মো: তানভীর হোসেন বলেন, ‘আমি যোগদান করার পর থেকে বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করছি। যতবার অবৈধ স্থাপনা তৈরি করা হবে ততবারই গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। সরকারি জায়গা কেউ দখল রাখতে পারবে না। আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পর্যটন এরিয়াকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষার্থে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে আমরা প্রস্তুত আছি।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট